ভারতীয়দের জন্য বড়ো ঘোষণা করলো বাইডেন প্রশাসন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ভারতীয়দের জন্য ভাল খবর। অভিবাসন সংক্রান্ত আইন সংশোধন করছে জো বাইডেন সরকার। বৃহস্পতিবার সেনেট ও হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে ‘ইউ এস সিটিজেনশিপ অ্যাক্ট ২০২১’ বিল পেশ করা হয়েছে। সেনেটর বব মেনেন্ডেজ ও রিপ্রেজেন্টেটিভ লিন্ডা স্যানচেজ এই বিল পেশ করেন। ভারতীয়দের জন্য এটি একটি খুব বড়ো খবর।

প্রতিটি দেশের জন্য গ্রিন কার্ডের কোটা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা গ্রিন কার্ডের আবেদন মঞ্জুর করার কথাও বলা হয়েছে এই বিলে। এটি আইনে পরিণত হলে দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার অপেক্ষায় থাকা ভারতীয়দের এবার সুবিধা হবে। তাঁদের আর অপেক্ষায় থাকতে হবে না। এবার সহজেই তাঁরা গ্রিন কার্ড পেয়ে যাবেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই অভিবাসন সংক্রান্ত নিয়মের কড়াকড়ি করা হয়। ফলে ভারতীয়দের এইচ-১বি ও এল-১ ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হয়। অনেক ভারতীয়ই এক দশকেরও বেশি সময় ধরে গ্রিন কার্ড পাওয়ার অপেক্ষায়। এবার তাঁদের সমস্যা মিটতে পারে।

তবে সংবাদসংস্থা আইএএনএস সূত্রে খবর, ইমিগ্রেশন থিঙ্ক ট্যাঙ্ক কাটো ইনস্টিটিউটের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, গ্রিন কার্ডের যত আবেদন জমে আছে, সবগুলি বিবেচনা করতে করতে ৮৪ বছর লেগে যেতে পারে। ততদিনে ২ লক্ষ মানুষ বৃদ্ধ হয়ে মারা যাবেন।

এক বিবৃতিতে স্যানচেজ জানিয়েছেন, ‘নতুন বিলটি আইনে পরিণত হলে যাঁরা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অপেক্ষায় আছেন, তাঁরা এবার গ্রিন কার্ড পেয়ে যাবেন। পরিবারের সদস্য ও স্ত্রী বা স্বামী, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও অঙ্কে পিএইচডি বিষয়ক নিয়মে বদল আনা হয়েছে। তার ফলে বহু মানুষ উপকৃত হবেন।’

বাউন্ডলেস ইমিগ্রেশন সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ডুগ র‍্যান্ড বলেছেন, ‘নতুন বিলের ফলে অসংখ্য মানুষ স্বস্তি পাবেন। এতদিন ধরে অপেক্ষা করতে হয়েছে তাঁদের। এর চেয়ে খারাপ আর কিছু হয় না।’এতদিন মার্কিন অভিবাসন আইন সংক্রান্ত নিয়মে বলা ছিল, এইচ-১বি ভিসা যাঁদের রয়েছে, তাঁদের সন্তানদের ২১ বছর বয়স হওয়ার আগেই যদি বাবা-মা অভিবাসনের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত না হন, তাহলে তাঁরা গ্রিন কার্ড পাওয়ার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না। এবার সেই নিয়ম বদলাতে চলেছে। এইচ-১বি ভিসা পাওয়া ব্যক্তিদের সন্তানরাও এই ভিসা নিয়েই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারবেন।

নতুন নিয়মে আরও বলা হয়েছে, এবার থেকে এইচ-১বি ভিসা যাঁদের রয়েছে, তাঁদের স্বামী বা স্ত্রীও চাকরি করতে পারবেন। ট্রাম্প এই নিয়ম তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তিনি ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার পর এবার নতুন নিয়ম চালু হতে চলেছে।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর কর্মসংস্থান সংক্রান্ত ১,৪০,০০০ গ্রিন কার্ড দেওয়া হবে। প্রতিটি দেশের জন্য ৭ শতাংশ করে গ্রিন কার্ড বরাদ্দ। মার্কিন অভিবাসন সংক্রান্ত নতুন বিলে বলা হয়েছে, প্রতিটি দেশের জন্য বরাদ্দ বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করা হবে। ফলে এইচ-১বি ভিসায় থাকা ভারতীয়দের একটা বড় অংশ গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন জানাতে পারবেন।