বড় খবর:পাকিস্তানের বালাকোটে হামলার মাস্টারমাইন্ড অফিসার দাঁড়াচ্ছেন বিজেপিতে

বিজেপির শেষ দফার প্রার্থী তালিকায় বড়সড় চমক। কলকাতার রাসবিহারী (RashBehari) কেন্দ্র থেকে গেরুয়া শিবিরের টিকিটে লড়বেন ভারতীয় সেনার প্রাক্তন শীর্ষকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুব্রত সাহা। সেনার উর্দি গায়ে যার সাফল্যের লেখাজোখা রীতিমতো ঈর্ষণীয়। শুধুমাত্র সেনার উর্দিতেই নয়, অবসরের পরও ভারত সরকারের নীতি নির্ধারক স্তরে কাজ করেছেন সুব্রতবাবু (Lt Gen (retired) Subrata Saha)।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুব্রত সাহা একটা সময় কাজ করেছেন ডেপুটি চিফ অফ আর্মি স্টাফ হিসেবে। যা কিনা বকলমে সেনার সেকেন্ড ইন কম্যান্ড। বালাকোটে ভারতীয় সেনার এয়ার স্ট্রাইকের নেপথ্যের অন্যতম কারিগর ছিলেন সুব্রতবাবু। সেনার বহু অপারেশনেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তিনি নিয়েছেন। প্রায় চার দশক ভারতীয় সেনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাহা। ভারতীয় সেনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) যে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র নীতি প্রবর্তন করেছেন তার নকশাও তৈরি করেছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুব্রত সাহাই।

অনেকেই তাঁকে ভারতীয় সেনার ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ (Make In India) প্রকল্পের ‘পোস্টার বয়’ হিসেবে অবিহিত করেন। প্রার্থী হওয়ার পর এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাহা বলছিলেন,”দেশীয় অস্ত্র নির্মাণে সেনার নকশা তৈরিতে আমার হাত রয়েছে। মেক ইন ইন্ডিয়া প্রকল্পের জন্য সেনার ডিজাইন ব্যুরোর নকশা আমার হাত দিয়ে তৈরি হয়েছে। এটা ২০১৬ সালে তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিকর সূচনা করেছিলেন।”

সুব্রত সাহা সেনা থেকে অবসর নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একেবারে কাছে থেকে তাঁর সঙ্গে কাজ করেছেন। মোদি তাঁকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য করেন। এখনও সেই পদেই রয়েছেন। সেখান থেকে সরাসরি সুব্রতবাবুকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে গেরুয়া শিবির। প্রাক্তন সেনাকর্তা বলছেন, “আমি চার দশক সেনাতে থেকে দেশের সেবা করেছি। এবার সময় এসেছে মানুষের সেবা করার। আমাদের সামনে লম্বা রাস্তা বাকি। আমার এলাকার মানুষকে সমস্ত রকম সমাজবিরোধী কার্যকলাপ থেকে রক্ষা করাটাই হবে আমার প্রথম কাজ।”

প্রাক্তন এই সেনাকর্তাকে প্রার্থী করার নেপথ্যে বিজেপির জাতীয়তাবাদের চেনা ছক কাজ করছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের। একজন বাঙালি সেনাকর্তাকে ভোটে দাঁড় করিয়ে আসলে বঙ্গ সমাজেও জাতীয়তাবাদ জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করছে গেরুয়া শিবির।