ইস্তাহারে প্রতিশ্রুতির বন্যা থাকলেও,ফেরে না উচ্চ শিক্ষিত সাগরদের ভাগ্য

নির্বাচন আসে,নির্বাচন যায়। ইস্তাহারের পর ইস্তাহারের পাতায় লেখা হয় কত শত প্রতিশ্রুতি। বাস্তবের ক্যানভাসে সে সব অতীত হয়ে যায় ভোট পরবর্তী সময়ে। এরকম এক প্রতিশ্রুতি আছে এবারের ইস্তাহারেও। কেমন সেই প্রতিশ্রুতির ছবি। যে ছবি পালটায় না কোন সময়। 

যেকোনো নির্বাচন লোকসভায় হোক কিংবা বিধানসভা হোক, পঞ্চায়েত নির্বাচন হোক নির্বাচনের প্রাক্কালে বেকার যুবক যুবতীদের জন্য কর্মসংস্থান একটি বড় গুরুত্ব পায়। কিন্তু ভোট হয়ে যাবার পর গুরুত্ব একেবারে গুরুত্বহীন হয়ে যায়। এমএ পাস করে ময়নাগুড়ি ব্লকের আমগুরি এর বাসিন্দা সাগর বিশ্বাস জলপাইগুড়িতে রাস্তার পাশেই সবজি বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছে।

সে জানিয়েছে এমএ পাস করার পর সরকারি চাকরির জন্য অনেক চেষ্টা করেছে কিন্তু তার ভাগ্যে সরকারি চাকরির জোটেনি। তাই বাধ্য হয়ে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের মুখে অন্নসংস্থানের জন্য সবজির ব্যবসা করছে সে। প্রতিদিন ভোরবেলা বাড়ি থেকে বেরিয়ে টোটো করে প্রায় কুড়ি থেকে 25 কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে জলপাইগুড়িতে এসে সবজি বিক্রি করে সে। প্রতিদিন যার লাভ হয় সংসার কোনরকমে টেনেটুনে চলে যায়।

তার গলায় আক্ষেপের সুর সে জানায় অর্থ না থাকলে শিক্ষিত হয়েও কোন লাভ নেই। এমএ পাস করেছে সে মেদিনীপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। এরপর চাকরির জন্য মরিয়া চেষ্টা শুরু করে কিন্তু চাকরির ভাগ্য তার হয়নি। বাধ্য হয়ে সংসার চালানোর জন্য আলুর ব্যবসা শুরু করে। এরপর সে বিয়ে করে। আলুর ব্যবসা তে মারাত্মক লোকসানের মুখে পড়তে হয় তাকে। নিজের স্ত্রী ও তাকে ছেড়ে দিয়ে চলে যায় আর্থিক অনটনের কারণে।

এরপর সাগর শিলিগুড়িতে এসে একটি কারখানা তে শ্রমিকের কাজ শুরু করে কিন্তু দুর্ভাগ্য সেখানেও তার পিছনে তাড়া করে তার কাজ চলে যায়। সে আরও জানিয়েছে তার ইচ্ছা ছিল স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলে সরকারি চাকরি করবে। এই কারণে বিয়ের পর নিজের স্ত্রীকে উচ্চশিক্ষিত করে সে। কিন্তু ভাগ্যের কি নিষ্ঠুর পরিহাস আর্থিক অনটনের কারণে তার স্ত্রীও তাকে ছেড়ে চলে যায়। এখন রাস্তার পাশে সবজি বিক্রি করে কোন রকমের সংসার চালাচ্ছে সাগর বিশ্বাস।